বাংলাদেশি রান্না মানেই মশলা। প্রায় প্রতিটা রান্নাতেই কোনো না কোনো মশলা পিষতে হয়। অনেকে আবার রেডি মশলা ব্যবহার করেন, কিন্তু ঘরে পিষে নেওয়া মশলার স্বাদ আর গন্ধটা আলাদা, এটা সবাই জানি।
কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন এই কাজের জন্য ভুল ব্লেন্ডার ব্যবহার করা হয়।
অনেক সময় দেখা যায়, স্মুদি বা জুস বানানোর জন্য কেনা সাধারণ ব্লেন্ডারে শুকনা মশলা দিলে ঠিকমতো গুঁড়া হয় না। কখনো ব্লেন্ডার অতিরিক্ত শব্দ করে, কখনো জার গরম হয়ে যায়, আবার কখনো মোটরই দুর্বল হয়ে পড়ে। কয়েক মাস ব্যবহার করার পরই ব্লেন্ডার নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনাও বাংলাদেশে খুব সাধারণ।
এর মূল কারণ একটাই, মশলা পিষার কাজটা সাধারণ ব্লেন্ডারের জন্য নয়।
মশলা পিষতে লাগে শক্তিশালী মোটর, ঠিক ধরনের ব্লেড, আর এমন জার যা চাপ সহ্য করতে পারে। বাংলাদেশের রান্নাঘরের বাস্তব ব্যবহার, টানা মশলা পিষা, ভেজা ও শুকনা উপাদান একসাথে ব্যবহার, লো ভোল্টেজ, এই সবকিছু মাথায় রেখে ব্লেন্ডার/গ্রাইন্ডার না নিলে ঝামেলা হবেই।
এই গাইডে আমরা ঠিক সেই জায়গাটাতেই ফোকাস করেছি। এখানে আপনি পাবেন:
- মশলা পিষার জন্য আসলেই কোন ধরনের ব্লেন্ডার দরকার
- বাংলাদেশে ব্যবহার উপযোগী সেরা ৫টি মশলা গুড়া করার ব্লেন্ডার/গ্রাইন্ডার
- কেনার আগে কী কী বিষয় দেখবেন
- আর কোনটা আপনার রান্নার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে
যাতে আপনি টাকা খরচ করার আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, আর বারবার ব্লেন্ডার বদলাতে না হয়।
মসলা পিষার জন্য ব্লেন্ডার কেন আলাদা হওয়া দরকার
সব ব্লেন্ডারের কাজ এক রকম না। বাইরে থেকে দেখতে একই রকম লাগলেও, মসলা পিষার গ্রাইন্ডার/ব্লেন্ডার আর জুস/স্মুদি বানানোর ব্লেন্ডারের কাজের চাপ একদম আলাদা।
শক্ত মসলা বনাম নরম উপাদান
ফল, দুধ বা শাকসবজি ব্লেন্ড করা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু শুকনা মসলা, যেমন জিরা, ধনে, গোলমরিচ, দারুচিনি, এসব অনেক শক্ত। এগুলো গুড়া গেলে ব্লেন্ডারের মোটরের ওপর বেশি চাপ পড়ে। সাধারণ ব্লেন্ডারে এই চাপ নেওয়ার ক্ষমতা থাকে না, তাই ঠিকমতো গুঁড়া হয় না।
ভেজা ও শুকনা মসলা পিষার পার্থক্য
বাংলাদেশে আমরা শুধু শুকনা মসলা পিষি না। আদা–রসুন–পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ভেজা মসলা—সব একসাথে পেস্ট করতে হয়। এই ভেজা–শুকনা দুই ধরনের গ্রাইন্ডিংয়ের জন্য:
- বেশি টর্ক দরকার
- ব্লেড শক্ত হওয়া দরকার
- জারের ভেতরে মসলা আটকে না থাকার ব্যবস্থা দরকার
সাধারণ ব্লেন্ডারে এই ব্যালান্সটা থাকে না।
উচ্চ RPM আর টর্ক কেন জরুরি
অনেকেই শুধু ওয়াট দেখে ব্লেন্ডার কেনেন। কিন্তু মসলা পিষার ক্ষেত্রে RPM আর টর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ RPM থাকলে মসলা দ্রুত ঘুরে ফাইন গুঁড়া হয়, আর ভালো টর্ক থাকলে ব্লেড আটকে যায় না।
এই দুটো না থাকলে কী হয়?
- মসলা মোটা থেকে যায়
- ব্লেন্ডার বেশি শব্দ করে
- জার গরম হয়ে যায়
বাংলাদেশের ভোল্টেজ ও ব্যবহার অভ্যাস
আমাদের দেশের আরেকটা বাস্তব সমস্যা হলো লো ভোল্টেজ। অনেক এলাকায় নিয়মিত ভোল্টেজ ওঠানামা করে। মসলা পিষার সময় যদি ব্লেন্ডারের মোটর শক্ত না হয়, তাহলে খুব সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
তার ওপর আমরা প্রায়ই টানা কয়েকবার মসলা পিষি, আজকের রান্না, কালকের জন্য রেখে দেওয়া, কিংবা ঈদের সময় একসাথে বেশি মসলা। এই চাপ নেওয়ার মতো ডিজাইন সাধারণ ব্লেন্ডারে থাকে না।
তাই, মসলা পিষার জন্য আলাদা ভাবে তৈরি বা অন্তত শক্তিশালী স্পেসিফিকেশনযুক্ত ব্লেন্ডার ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
মসলা পিষার ব্লেন্ডার কেনার সময় যে বিষয়গুলো অবশ্যই দেখবেন
মসলা পিষার জন্য ব্লেন্ডার কিনতে গেলে শুধু ব্র্যান্ড বা দাম দেখলে চলবে না। বাংলাদেশের রান্নাঘরের বাস্তব ব্যবহার মাথায় রেখে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা দরকার।
নিচে সেগুলো সহজ করে ব্যাখ্যা করা হলো। যদি আপনি বিস্তারিত জানতে চান যে ব্লেন্ডার কেনার আগে কি কি দেখতে হবে, তাহলে আমাদের ব্লেন্ডার কিনার আগে কি কি দেখবেন পোস্টটি পড়তে পারেন।
মোটর পাওয়ার (Watt)

মসলা পিষার ক্ষেত্রে মোটরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাধারণভাবে:
- ৫০০W–৭৫০W মোটর হলে ঘরের ব্যবহার ও নিয়মিত মসলা পিষার জন্য ভালো
- এর কম হলে শক্ত মসলা পিষতে গিয়ে ব্লেন্ডার আটকে যেতে পারে
- খুব বেশি পাওয়ার থাকলে ভালো, তবে অপ্রয়োজনীয় হলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে
বাংলাদেশে দৈনিক রান্নার জন্য মাঝামাঝি রেঞ্জটাই সবচেয়ে ব্যালান্সড।
RPM এবং টর্ক
অনেকে এই দুইটা বিষয় এড়িয়ে যান, কিন্তু মসলা পিষার মান অনেকটাই এর ওপর নির্ভর করে।
- উচ্চ RPM থাকলে মসলা দ্রুত এবং ফাইনভাবে গুঁড়া হয়
- ভালো টর্ক থাকলে ব্লেড ঘোরার সময় চাপ সামলাতে পারে
RPM কম হলে মসলা নিচে জমে যায়, আর ব্লেন্ডার বেশি শব্দ করতে শুরু করে।
ব্লেডের মান ও ডিজাইন
মসলা পিষার সময় ব্লেডে সরাসরি চাপ পড়ে।
- স্টেইনলেস স্টিল ব্লেড সবচেয়ে টেকসই
- মোটা ও ধারালো ব্লেড হলে শুকনা মসলা ভালো পিষে
- চার ব্লেডের ডিজাইন সাধারণত দুই ব্লেডের চেয়ে কার্যকর
সস্তা ব্লেড দ্রুত ভোঁতা হয়ে যায়, ফলে পিষার মান কমে যায়।
জারের ধরন ও ক্যাপাসিটি
মসলা পিষার জন্য আলাদা ছোট জার থাকলে সবচেয়ে সুবিধা হয়।
- স্টিল বা মোটা প্লাস্টিক জার বেশি টেকসই
- খুব বড় জারে অল্প মসলা দিলে ঠিকমতো পিষে না
- জারের ভেতরের শেপ এমন হওয়া দরকার যাতে মসলা আটকে না থাকে
অনেক ব্লেন্ডারে ডেডিকেটেড মসলা জার দেওয়া থাকে, যা এই কাজে সবচেয়ে ভালো।
শব্দ ও ভাইব্রেশন
মসলা পিষার সময় কিছুটা শব্দ হবেই, তবে অতিরিক্ত হলে সমস্যা।
- Anti-vibration বেস থাকলে ব্লেন্ডার নড়ে না
- কম ভাইব্রেশন মানে মোটরের ওপর কম চাপ
- ছোট ঘর বা ফ্ল্যাটে থাকলে এই বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ
শব্দ বেশি হলে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করাও বিরক্তিকর হয়ে যায়। যদি জানতে চান ব্লেন্ডার বেশি শব্দ করলে কী করবেন, তাহলে আমাদের ব্লেন্ডার বেশি শব্দ করলে কী করবেন পোস্টটি দেখুন।
ওভারহিট প্রোটেকশন
মসলা পিষতে গেলে অনেক সময় টানা ব্লেন্ড করতে হয়।
- ওভারহিট প্রোটেকশন থাকলে মোটর নিজে থেকেই সেফ থাকে
- দীর্ঘমেয়াদে ব্লেন্ডারের আয়ু বাড়ে
- লো ভোল্টেজ এলাকায় এটি খুবই দরকারি ফিচার
এই ফিচার না থাকলে ব্লেন্ডার দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
মসলা পিষার সেরা ব্লেন্ডার/গ্রাইন্ডারের তালিকা
বাজারে প্রচুর ধরনের ব্লেন্ডার ও গ্রাইন্ডার পাওয়া যায়, তবে সবই সমান কার্যকর নয়। নিচের তালিকায় আমরা এমন ৫টি ব্লেন্ডার/গ্রাইন্ডার দেখিয়েছি যা বাংলাদেশি রান্নাঘরের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
যেহেতু অনলাইন প্রোডাক্টের দাম সবসময়ই বাড়ে-কমে, তাই প্রতিটি প্রোডাক্টের জন্য আপনি [বর্তমান দাম দেখুন] এ ক্লিক করে এর সাম্প্রতিক দাম দেখে নিতে পারেন এবং সহজে কিনতে পারেন।
| মডেল | দাম | লিঙ্ক/কিনুন |
| Household Small Powder Grinding Machine | 798 TK | [বর্তমান দাম দেখুন] |
| Nima Electric 2 in 1 Blender and Grinder | 1099 TK | [বর্তমান দাম দেখুন] |
| Philips HL7757/00 Mixer Grinder | 6550 TK | [বর্তমান দাম দেখুন] |
| Opulence Electric Grinder Machine | 500 TK | [বর্তমান দাম দেখুন] |
| Silver Crest Stainless Steel Mini Grinder | 950 TK | [বর্তমান দাম দেখুন] |
মসলা পিষার জন্য সেরা ৫টি ব্লেন্ডার ও গ্রাইন্ডার (রিভিউ)
এই তালিকার প্রোডাক্টগুলো বাছাই করা হয়েছে বাংলাদেশি রান্নাঘরের বাস্তব ব্যবহার মাথায় রেখে। শুকনা মসলা, ভেজা মসলা, অল্প পরিমাণে দ্রুত পিষা, সব দিক বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
১. Household Small Powder Grinding Machine

এই ধরনের স্মল পাউডার গ্রাইন্ডিং মেশিন মূলত শুকনা মসলা পিষার জন্যই তৈরি। ঘরে যারা নিয়মিত অল্প পরিমাণে মসলা গুঁড়া করেন, তাদের জন্য এটি বেশ কার্যকর।
কেন মসলা পিষার জন্য ভালো
- শুকনা মসলা পিষার জন্য ডেডিকেটেড ডিজাইন
- ছোট কিন্তু শক্তিশালী মোটর
- জিরা, ধনে, মরিচ, দারুচিনি সহজে গুঁড়া করে
ভালো দিক
- খুব অল্প সময়ে মসলা পিষে
- জায়গা কম নেয়
- ব্যবহার করা সহজ
সীমাবদ্ধতা
- ভেজা মসলা পিষার জন্য উপযুক্ত নয়
- একবারে বেশি পরিমাণ পিষা যায় না
কার জন্য ভালো
যারা ঘরে শুকনা মসলা গুঁড়া করে সংরক্ষণ করেন।
২. Nima Electric 2 in 1 Blender and Grinder

Nima–এর এই 2 in 1 মডেলটি ব্লেন্ডার ও গ্রাইন্ডার—দুটোর কাজই করে। বাংলাদেশি রান্নার জন্য এটি বেশ ব্যবহারযোগ্য একটি অপশন।
কেন ভালো মসলা পিষে
- মাঝারি শক্তির মোটর
- ভেজা ও শুকনা—দুই ধরনের মসলা পিষতে পারে
ভালো দিক
- এক মেশিনে একাধিক কাজ
- দৈনিক রান্নার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী
- দামের তুলনায় ভালো পারফরম্যান্স
সীমাবদ্ধতা
- টানা দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে বিরতি দরকার
- খুব শক্ত মসলায় ধীরে কাজ করে
কার জন্য ভালো
যারা একটাই মেশিনে মসলা, পেস্ট ও হালকা ব্লেন্ডিং করতে চান।
৩. Philips HL7757/00 Mixer Grinder

Philips HL7757/00 বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় মিক্সার গ্রাইন্ডারগুলোর একটি। মসলা পিষার ক্ষেত্রে এর মোটর ও বিল্ড কোয়ালিটি আলাদা করে চোখে পড়ে।
কেন ভালো মসলা পিষে
- শক্তিশালী মোটর
- একাধিক জার (মসলা, ভেজা ও শুকনা কাজে উপযোগী)
- ফাইন ও স্মুথ পেস্ট তৈরি করে
ভালো দিক
- দীর্ঘদিন টেকসই
- নিয়মিত মসলা পিষলেও মোটর দুর্বল হয় না
- বড় পরিবারের জন্য উপযোগী
সীমাবদ্ধতা
- দাম তুলনামূলক বেশি
- শব্দ মাঝারি মাত্রার
কার জন্য ভালো
যারা নিয়মিত ও বেশি পরিমাণে মসলা পিষেন এবং নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড চান।
৪. Opulence Electric Grinder Machine

Opulence Electric Grinder মূলত শুকনা মসলা ও দানাদার উপাদান পিষার জন্য ব্যবহৃত হয়। ছোট সাইজ হলেও শক্ত মসলা পিষতে এটি বেশ কার্যকর।
কেন ভালো মসলা পিষে
- শক্ত ব্লেড
- ছোট কিন্তু কার্যকর মোটর
- দ্রুত শুকনা মসলা গুঁড়া করে
ভালো দিক
- কম দামে ভালো ব্লেন্ডার
- পরিষ্কার করা সহজ
- রান্নাঘরে জায়গা কম নেয়
সীমাবদ্ধতা
- ভেজা মসলা পিষা যায় না
- একবারে অল্প পরিমাণে ব্যবহারযোগ্য
কার জন্য ভালো
যারা শুধু শুকনা মসলা পিষার জন্য আলাদা মেশিন চান।
৫. Silver Crest Stainless Steel Electric Mini Grinder

Silver Crest Mini Grinder ছোট আকারের হলেও মসলা পিষার জন্য এটি বেশ শক্তিশালী। স্টেইনলেস স্টিল বডি হওয়ায় টেকসই ও পরিষ্কার রাখা সহজ। এটি কম দামে খুবই ভালো একটি গ্রাইন্ডার/ব্লেন্ডার।
কেন ভালো মসলা পিষে
- স্টেইনলেস স্টিল জার ও ব্লেড
- দ্রুত গ্রাইন্ডিং
- শুকনা মসলার জন্য উপযুক্ত
ভালো দিক
- কম সময়েই মসলা পিষে
- হালকা ও বহনযোগ্য
- ছোট পরিবারে খুব কাজে আসে
সীমাবদ্ধতা
- ভেজা মসলা পিষার জন্য না
- একবারে বেশি মসলা পিষা যায় না
কার জন্য ভালো
ছোট পরিবার বা হালকা ব্যবহারের জন্য।
কোন ধরনের রান্নার জন্য কোন ব্লেন্ডার সবচেয়ে ভালো?
বাংলাদেশি রান্নায় মসলা ব্যবহার মানুষের পরিবারের চাহিদা ও রান্নার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই আমরা প্রতিটি ব্লেন্ডার কোন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ভালো তা সাজেশন হিসেবে দিচ্ছি।:
- দৈনন্দিন ব্যবহার (ছোট পরিবার): ছোট জারের ব্লেন্ডার বা Silver Crest Mini Grinder, Household Small Powder Grinding Machine ভালো। হালকা ও দ্রুত মসলা গুঁড়া হয়।
- মাঝারি পরিবার/নিয়মিত মসলা পিষা: Nima Electric 2 in 1 Blender and Grinder, Opulence Electric Grinder Machine। ভেজা ও শুকনা মসলা দুইই পিষতে সক্ষম।
- বড় পরিবার/প্রিমিয়াম Budget: Philips HL7757/00 Mixer Grinder। শক্ত মোটর ও একাধিক জার থাকার কারণে বড় পরিমাণ মসলা সহজে পিষা যায়।
- শুধু শুকনা মসলা পিষার জন্য: ছোট ও ডেডিকেটেড গ্রাইন্ডার যেমন Household Small Powder Grinding Machine।
মসলা পিষার সঠিক ব্যবহার নিয়ম
মসলা পিষা যতই সহজ মনে হয়, তবুও কিছু ভুল করলে ব্লেন্ডার নষ্ট হতে পারে বা মসলার গুণমান খারাপ হতে পারে। নিচে ধাপে ধাপে সঠিক ব্যবহার নিয়ম দেওয়া হলো:
- খালি জারে ব্লেন্ড করবেন না
- সর্বদা জারে কিছুটা মসলা বা অন্যান্য উপাদান রাখুন।
- খালি ব্লেন্ড করলে ব্লেড ফাঁকা ঘুরে মোটরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং শব্দ বেশি হয়।
- একবারে বেশি মসলা না দিন
- ছোট পরিমাণে মসলা পিষলে ব্লেড সহজে ঘুরে ফাইন পেস্ট তৈরি হয়।
- বড় ব্যাচে পিষলে নীচে মসলা জমে যায় এবং পেস্ট সমান হয় না।
- ভেজা ও শুকনা মসলা একসাথে পিষার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন
- সব ব্লেন্ডার ভেজা ও শুকনা মসলা একসাথে নিতে সক্ষম নয়।
- শক্তিশালী মোটরযুক্ত বা 2-in-1 ব্লেন্ডার ব্যবহার করলে ভালো হয়।
- মাঝে মাঝে বিরতি দিন
- টানা অনেকক্ষণ ব্লেন্ড করলে মোটর গরম হয়ে যেতে পারে।
- ৩০–৬০ সেকেন্ড কাজ করার পর ২০–৩০ সেকেন্ড বিরতি দিন।
- ব্লেড ও জার পরিষ্কার রাখুন
- প্রতিবার ব্যবহার শেষে ব্লেড ও জার ধুয়ে শুকিয়ে রাখুন।
- তেলযুক্ত বা আঠালো মসলা থাকলে ব্লেডে লেগে যায়, যা পরবর্তী ব্যবহারকে প্রভাবিত করে।
- Anti-vibration বেস ব্যবহার করুন
- কিছু ব্লেন্ডারে কম্পন কমাতে Anti-vibration বেস থাকে।
- এটি স্থির রাখে এবং কম শব্দের সঙ্গে নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করে।
- ওভারহিট প্রোটেকশন থাকলে ব্যবহার সুবিধাজনক
- ওভারহিট প্রোটেকশন থাকলে ব্লেন্ডার নিজেই বন্ধ হয়ে যায় অতিরিক্ত গরম হলে।
- এটি মোটরের আয়ু বাড়ায় এবং দুর্ঘটনা কমায়।
- পাওয়ার সাপ্লাই নিশ্চিত করুন
- লো ভোল্টেজ বা অনিয়মিত বিদ্যুৎ ব্লেন্ডারের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
- সম্ভব হলে স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করুন বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টানা ব্লেন্ড করুন।
- নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট জার ব্যবহার করুন
- শুকনা মসলা, ভেজা পেস্ট, হালকা ব্লেন্ডিং—প্রত্যেকের জন্য আলাদা জার থাকলে ফল ভালো হয়।
- শুকনা মসলা, ভেজা পেস্ট, হালকা ব্লেন্ডিং—প্রত্যেকের জন্য আলাদা জার থাকলে ফল ভালো হয়।
- ছোট মেশিনে হালকা ব্যবহার
- ছোট ব্লেন্ডার বা গ্রাইন্ডার দীর্ঘসময় টানা ব্যবহার করা ঠিক নয়।
- প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ব্যাচে পিষুন, এতে ব্লেন্ডার টেকসই হয়।
উপসংহার
মসলা পিষা বাংলাদেশি রান্নার একটি অপরিহার্য কাজ, এবং সঠিক ব্লেন্ডার বাছাই করলে সময়, শ্রম ও টাকা উভয়ই বাঁচে। এই গাইডে আমরা দেখেছি কোন ব্লেন্ডার বা গ্রাইন্ডার কোন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ভালো, সঠিক ব্যবহার নিয়ম এবং টিপস।
আপনার রান্নার ধরন ও ব্যবহার অনুযায়ী উপযুক্ত ব্লেন্ডার বেছে নিন, [বর্তমান দাম দেখুন] এ ক্লিক করে সাম্প্রতিক দাম যাচাই করুন এবং সহজে কিনুন। সঠিক ব্লেন্ডার ব্যবহার করলে মসলা পিষা হবে সহজ, দ্রুত এবং ফলাফলের মানও সর্বোচ্চ থাকবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – মসলা পিষার জন্য ব্লেন্ডার
মসলা পিষার জন্য কোন ব্লেন্ডারের মোটর পাওয়ার কত হওয়া উচিত?
উত্তর: বাংলাদেশি রান্নার জন্য ৫০০–৭৫০ ওয়াটের মোটর যথেষ্ট। ছোট বা মাঝারি পরিবারের দৈনন্দিন মসলা পিষার কাজের জন্য এই পাওয়ার যথেষ্ট শক্তিশালী। খুব শক্ত মোটর থাকলেও দাম ও বিদ্যুৎ খরচ বেশি হবে, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচন করুন।
সাধারণ ব্লেন্ডার দিয়ে কি মসলা পিষা যায়?
উত্তর: সাধারণ স্মুদি বা জুস ব্লেন্ডার দিয়ে ছোট পরিমাণে নরম মসলা সম্ভব, তবে শক্ত বা শুকনা মসলা পিষতে সমস্যা হতে পারে। মসলা পিষার জন্য বিশেষভাবে শক্ত মোটর ও টেকসই ব্লেডযুক্ত ব্লেন্ডার বা গ্রাইন্ডার ব্যবহার করাই ভালো।
ভেজা এবং শুকনা মসলা একসাথে পিষা যায় কি?
উত্তর: সব ব্লেন্ডার এটি করতে পারে না। ভেজা ও শুকনা একসাথে পিষতে হলে 2-in-1 বা শক্তিশালী মোটরের ব্লেন্ডার ব্যবহার করুন। অন্যথায় পেস্ট সমান হবে না এবং ব্লেন্ডার অতিরিক্ত চাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কতক্ষণ টানা মসলা পিষা নিরাপদ?
উত্তর: ব্লেন্ডারের শক্তি অনুযায়ী ৩০–৬০ সেকেন্ড কাজ করার পর ২০–৩০ সেকেন্ড বিরতি দেওয়া ভালো। টানা ব্যবহার করলে মোটর অতিরিক্ত গরম হতে পারে।
ছোট ব্লেন্ডার কি বড় পরিবারের মসলা পিষতে সক্ষম?
উত্তর: ছোট জারের ব্লেন্ডার বা গ্রাইন্ডার একাধিকবার ব্যাচে ব্যবহার করলে সম্ভব, তবে বড় পরিবারের জন্য এটি সময়সাপেক্ষ। বড় বা প্রিমিয়াম মডেল যেমন Philips HL7757/00 বেশি সুবিধাজনক।
মসলা ব্লেন্ডারের ওভারহিট প্রোটেকশন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: ওভারহিট প্রোটেকশন থাকলে ব্লেন্ডার অতিরিক্ত গরম হলে নিজেই বন্ধ হয়ে যায়। এতে মোটরের আয়ু বাড়ে এবং দুর্ঘটনা ও ক্ষতি কমে।
কি ধরনের ব্লেড মসলা পিষার জন্য সবচেয়ে ভালো?
উত্তর: স্টেইনলেস স্টিল ব্লেড যা ধারালো ও মোটা। চার ব্লেড ডিজাইন সাধারণত দুই ব্লেডের তুলনায় ভালো ফাইন পেস্ট তৈরি করে এবং শক্ত মসলা সহজে পিষতে পারে।
অনলাইন প্রোডাক্টের দাম সবসময় পরিবর্তিত হয়, তাহলে কীভাবে কিনব?
উত্তর: প্রতিটি প্রোডাক্টের কাছে থাকা লিঙ্কে [বর্তমান দাম দেখুন] এ ক্লিক করে সাম্প্রতিক দাম যাচাই করে কিনুন। এছাড়া অফার বা ডিসকাউন্ট অনুযায়ী দাম কম-বেশি হতে পারে।




